ইউরোপ টুর – পর্ব ৩

সুইজারল্যান্ড চমৎকার দেশ সবসময় জানা, কথা কিন্তু সুইজারল্যান্ড  দেখার ইচ্ছা কয়েকশগুন বেড়েছে ‘Dilwale Dulhania Le Jayenge‘ ছবিটি দেখার পর, ওই ছবির বেশিরভাগ শুটিং সুইজারল্যান্ড  হয়েছে। ছবির কিছু দৃশ্য দেখে মনে হয়েছিল রীতিমতো স্বর্গ!! আমারা ইউরোপ টুর দিব কিন্ত স্বর্গএ যাবনা তা কেমন করে হয়! তার উপর সুইজারল্যান্ড যাওয়াকে আরো পোক্ত করতে আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবি ওখানে ডক্টরেট (PhD) করছে! দুইদিনে স্বর্গের তেমন কিছুই দেখা যায়না, তবু আমার বান্ধবির অতি ’shortcut but intelligent’  plan অনুযায়ি চলায় অনেক main attraction দেখতে পেরেছি!!

সেপ্টেম্বর ২৯-এ প্লেন নামল Zurich। এয়ারপোর্ট-এ আমার বান্ধবি এসেছিলো আমাদেরকে নিতে। ওর বাসায় রাতে এক প্রস্থ আড্ডা দিয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমালাম। পরদিন শুরু হলো স্বর্গ দর্শন :)

১ম দিনঃ (সেপ্টেম্বর ৩০, ২০০৯)
প্রথমে বান্ধবী নিয়ে গেল তার ইঊনিভার্সিটিতে। ETH University – ওরা বলে ই টি হা, H কে হা উচ্চারন করা হয়!! চমৎকার সাজানো গোছানো ইঊনিভার্সিটি! মনে মনে ভাবলাম এত সুন্দরের মাঝে এরা পড়ে কেমনে! আমি হলে হা করে খালি সৌন্দর্য দেখতাম :P ওদের অফিস রুমগুলোও অনেক প্রফেশনাল, অফিস দেখে ওর practical research এর রুমে গেলাম। সেখানে গিয়ে এমন কারসাজি করলাম ওদের কাজের কল কব্জা নিয়ে, মনে হলো ওই মুহুর্তে কিছু একটা আবিষ্কার করে patent বানিয়ে ফেলব :P  আমরা দুপুরের খাবার খেলাম ভার্সিটিতেই, কোনোমতে গিলা যাকে বলে, কেন যেন ওইসব খাবার মুখে রুচেনা! খাবার শেষে গেলাম  ‘Botanical Garden’, ওখানে ৩টা ডোম আছে, একেকটাতে একেক দেশে weather এবং সেই অনুযায়ি গাছপালা, ডোমগুতরে গুলোর ভেতরে ঢুকে মনে হচ্ছিল কোনো এক গভীর জঙ্গলে এসে গেছি!! জঙ্গল পর্ব শেষে শহরটা (Zurich) একটু ঘুরে দেখলাম। Zurich Lake-এ গেলাম, সেখানে পানির ফোয়ারায় রংধনু দেখা যাচ্ছিল, বিকেলটা যে কী ভীষন সুন্দর ছিল, কত আড্ডা দিলাম…কত nostalgic স্মৃতি নিয়ে কথা…আমাদের একসাথে বাংলাদেশে হলে থাকতে কত অদ্ভুত স্ম্রৃতির গল্প!!!

২য় দিনঃ (অক্টোবর ০১, ২০০৯)
পরদিন গেলাম আল্পস পর্বতমালা দেখাতে। প্রথমে Zurich থেকে Luzern যেতে হয় ট্রেনে, ট্রেনে যেতে যেতে দুপাশের যেসব দৃশ্য দেখেছি তা অবর্ননীয়। কত মুভীতে এই অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্যগুলো একসময় দেখেছি!! এরপর Luzern থেকে জাহাজে করে গেলাম Pilatus। জাহাজের সেই journey আরেক অসাধারন অভিজ্ঞতা! এইগুলো আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবনা। আমরা জাহাজের দোতালায় বসে চা কফি খেলাম, কিছু পাখি আমাদের খাবারের লোভে আমাদের পাশে পাশে উড়ছিল, লেকের দুইধারে অপুর্ব সব জায়গা, অদ্ভুত আর কী রোমাঞ্চকর সময় কেটেছে সেদিন!

Pilatus পৌছে আমার সুখ শেষ :( কারন পরবর্তী adventure হলো ছোটো একটা ট্রেন করে ৭০০০ ফুট উপরে উঠা এবংসেই ট্রেন 45 Deg angle-উঠে!! বলা হয়ে থাকে সেটা পৃথিবীর সবচেয়ে খাড়া ট্রেন ভ্রমন (Steepest Train Ride)। আমি উচ্চতার ব্যাপারে একটু ভীতু মানুষ, ট্রেন দেখে আমি ভয়ে কাইত!! আমাকে সবাই মিলে বোঝালো ট্রেনটা কতটা safe & risk free! অনেক সাহস করে বান্ধবীকে বিষ্বয়াস করে অবশেষে উঠলাম, যতটা ভয় পাব ভেবেছিলাম ততটা পাইনি, আমাকে কথা বলে busy রাখার চেষ্টা চলছিল আর ফাকে ফাকে আমিও দেখছিলাম ride-টা আসলেই অসাধারন (এক কথায় minblowing)!!
এক পর্যায়ে এসে হাত বের করে মেঘ পর্যন্ত ধরা যায়। ৭০০০ ফুট উপরে জায়গাটাকে বলে ‘Pilatus Kulm’, ওখানে পৌছেই দেখি খুব বিষন্ন সুরে একজন বাশী বাজাচ্ছে! আর এত উপরে হিমশীতল ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিলাম, তবু কীযে ভালো লাগছিল!!

Pilatus অনেক ঘুরাঘুরি করে ট্রেনে করে Luzern ফেরত আসলাম, ওখানে একটা খুব চমৎকার ব্রীজ আছে, চারদিক ফুলে ঘেরা, অনেক মুভীর গানের শুটিং নাকি সেখানে হয়। আরো কিছু আশপাশ দেখে বাসা ফেরত গেলাম। ফেরার সময় ট্রেনে বারবার মনে হচ্ছিল নিশ্চয়ই জিবনে কোনো এক ভাল কাজ করেছি, যার জন্য আজ বিধাতার প্রকৃতির এই অপুর্ব রুপ আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে…আমার সেইদিনের সেই মুগ্ধতা এখনো কাটেনি আর এই জীবনে কাটবে বলেও মনে হয়না!!!

Botanical garden - Zurich, Switzerland

Botanical garden - Zurich, Switzerland

Steepest Train Ride to 7000 ft up - Pilatus, Switzerland

Steepest Train Ride to 7000 ft up - Pilatus, Switzerland

ইউরোপ টুর – পর্ব ২

ছোটোবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিলো লন্ডন বেড়াতে যাবার, আমি চট্টগ্রাম বড় হলেও আমার origin হলো সিলেট। সিলেটীরা বেশীর ভাগ লন্ডন থাকে, আমারো প্রচুর আত্তীয় স্বজন লন্ডন থাকেন, তাই সবসময় আমি লন্ডন যাবার ব্যাপারে বিপুল আগ্রহী ছিলাম। তাদের কাছে কত রকমের গল্প শুনতাম, খুব জানতে ইচ্ছা করতো তারা কেমন থাকেন, কি করেন, দেশটা কেমন! অবশেষে সেই দিন এলো যেদিন আমাদের প্লেন লন্ডনের মাটিতে পা রাখলো, এবং আমি অবাক হলাম জেনে যে, আমি অতি হাস্যকরভাবে আবেগপ্রবন একজন মানুষ!! কারন আমার চোখ থেকে পানি পরছে  লন্ডনের মাটিতে পা রেখে, আমি আবেগাপ্লুত না হয়ে বরং নিজের এই ‘অতি’ আবেগপ্রবনতায় কিছুটা বিরক্ত হলাম!!

আমার চাচা এসেছিলেন আমাদের নিতে, আমরা এয়ারপোর্ট থেকে চাচার বাসা পৌছাতে ৪৫ মিনিটের জায়গায়  ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটে লাগালাম (গল্পের কারনে ভুল রাস্তায় চলে গিয়েছিলাম :( )। পরদিন সকালে শুরু হলো আমাদের আকাঙ্খিত টুর!!

১ম দিনঃ (সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৯)
ট্রেনে করে Luton (চাচার বাসা) থেকে London শহরে গেলাম, প্রথমে দেখতে গেলাম Buckingham palace (লন্ডনের রানীর প্রাসাদ)। অখানকার আসল চমক ছিলো সেন্ত্রির মর্তির মতো দাড়িয়ে থাকা, সে একচুল-ও নড়েনা। আমার মনে হলো প্রাসাদের চেয়ে ওইটাই বরং সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখে :) প্রাসাদের আশপাশ ঘুরে কিছুক্ষন হেটে চলে গেলাম লন্ডন টাওয়ার ব্রীজ দেখতে,  ব্রীজটার আসল আকর্ষন হলো বড় কোনো জাহাজ বা নৌকা ওই ব্রীজের নিচ দিয়ে যাবার সময় সেটা খুলে যায়, দেখার মতো একটা দৃশ্য কিন্তু আমরা ১৫ মিনিটের জন্য ব্রীজ দেখতে এসে সেটা দেখব আশা করনি। আমাদের ভাগ্য খুব ভাল ছিল বলে কিনা জানিনা, আমরা ঠিক চলে আসবার সময় আমাদের অবাক করে দিয়ে ব্রীজটা খুলে গেল :) একটা বড় নৌকা যাচ্ছিল উচু কোনো জিনিষ নিয়ে। এক মিনিট দেরি না করে ভিডিওতে বন্দি করে নিলাম সেই দৃশ্য!!

এরপর গেলাম বিগ বেন ঘড়ি আর লন্ডন আই দেখতে, London Eye হলো বিশাল এক চরকি যেটা থেকে পুরো লন্ডন শহর দেখা যায়, পুরো জিনিষ্টা চড়তে ৪৫ মিনিট লাগে বলে সেখানে আর উঠা হয়নি, শুধু পোজ মেরে কিছু ছবি তুলেছি আশে পাশে :) তারপর গেলাম লন্ডনের বুকে ক্ষুদ্র বাংলাদেশ দেখতে, মানে ব্রিকলেন, জায়গাটা হলো বাংগালি পাড়া, আশেপাশে সব বাঙ্গালি দোকান পাঠ। সেখানে সোনারগা রেস্তোরাতে বিরিয়ানি খেলাম, মনে হলো ঢাকা বসে খাচ্ছি!! এরপর শহরের আর কিছু মার্কেট পাড়া, থিয়েটার পাড়া দেখে সেদিনের টুরের সেখানেই সমাপ্তি দিলাম।

২য় দিনঃ (সেপ্টেম্বর ২৭, ২০০৯)
পরদিন গেলাম অতি প্রাচিনতম, অতি বিখ্যাত Oxford University দেখতে। University -র প্রতিটা কলেজ (বিভাগ) দেখতে একেকটা প্রাসাদের মতো, এই প্রাসাদ্গুলোর ভেতরে class হচ্ছে ভেবে অদ্ভুত লাগল। সারাদিন ওখানেই কাটালাম। ওখানে একটা চার্চ-এর ৫তালায় উঠেছিলাম, সেটার interesting ব্যাপারটা হলো ‘ঊপরে ঊঠার  সিড়ি’, আমি আমার জীবনে এত সরু এবং পেচানো সিড়ি আর দেখিনি, উঠার আগে চিৎকার করে বলতে হয় ‘আমরা আসছি, কেঊ নেমনা’, এতই ছোটো সিড়ি যে উঠলে নামার রাস্তা থাকেনা আর নামলে উঠার জায়গা হয়না! এত কারসাজি করে সেই চার্চের উপরে উঠে লাভ হয়েছিল, পুরো University-টাকে বেশ ভালোভাবে দেখা যায় উপর থেকে!

University টুর শেষে ওইদিন ‘রাতের লন্ডন শহর’ দেখালেন আমার এক কাজিন ভাই। বেশ জমজমাট আর আলোকময়, অনেকটা New York-এর ‘Time Square’-এর মতো, শুধু এটা তার ছোটো version!!

৩য় দিনঃ (সেপ্টেম্বর ২৮, ২০০৯)
আমাদের UK’এর শেষ দিন। আমরা গেলাম British Museum। যেই দেশ একসময় বেশিরভাগ দেশকে শাষন করেছে তার Museum কালেকশন কেমন হবে তা আগেই বুঝেছিলাম, প্রাচিন ঐতিহ্যের এমন অনেক দেশের অনেক নিদের্শন আছে যা ওই দেশের নিজের আছে কিনা সন্দেহ! আমি সবচেয়ে মুগ্ধ হয়েছি Mummy দেখে। বিশ্বাস হয়না হাজার বছর আগের এই মানুষগুলো এখনো কত real মনে হয়!!!!!

Museum দেখা শেষে এদিক ওদিক ঘুরে বেরালাম, কিছু শপিং সেন্টার, কিছু রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি।

জানি তিন দিনের এই ইঊকে টুর-এ এর চেয়ে বেশি আর কীইবা দেখতে পারব, তবু ভীষন তৃপ্ত অনুভব করেছি। আমার অনেক দিনের একটা শখ পুর্নতা পেয়েছে। আমি এখন আমার কল্পনার ইঊকের সাথে বাস্তবের ইঊকে-কে মিলাতে পারি :)

ইঊকে টুর-এর আরেকটা জিনিষ দিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি, বাংলাদেশের মতো ওখানেও car-গুলোতে ডান দিকে ড্রাইভার বসে। আমেরিকায় অনেক অভ্যস্ত হয়ে গেছি বাম দিকে  ড্রাইভ করে/দেখে, তাই হঠাৎ অমনটি দেখে কী অস্বস্তিই না লাগছিল!! মনে হচ্ছিল সবাই এমন wrong way-তে চলছে কেন!!!!

কিছু ছবিঃ

London Tower Bridge

London Tower Bridge

Mummy - British Museum

Mummy - British Museum

ইউরোপ টুর – পর্ব ১

স্সম্প্রতি আমি আর আমার hubby মিলে ছোটো খাট একটা ইউরোপ টুর দিলাম।  ইউরোপ বলতে অনেকগুলো দেশ বোঝায়, আমরা অবশ্য মাত্র ৪ টার মতো দেশ

ঘুরেছি (আইসল্যান্ড, ইউ.কে, সুইজারল্যান্ড এবং ইতালী)। তবু বলতে ভাল লাগে ইউরোপ টুর দিয়েছি :) মাত্র ১০ দিনে আমরা এই ৪ টা দেশ ঘুরেছি, এত অল্প সময়ে এত কিছু দেখতে পারব আর এত চমৎকার সময় কাটবে আগে ভাবিনি।

সেপ্টেম্বর  ২৪ এ Londonএর উদ্দেশে শুরু হলো আমাদের বহুপ্রতিক্ষিত সেই টুর । আমাদের flight যথাসময়ে  রওনা দিল Seattle (WA)  থেকে। আমি প্লেনে উঠে খুশিতে  আত্তহারা হলাম যখন দেখলাম আমার সামনের TV Panel’এ ২০০ টির মতো অতি প্রিয় movie আছে। আমার যাত্রা শুরু হলো ‘Taking of Pelham 1 2 3′  movie’টি  দিয়ে  :)

এক নাগাড়ে তিনটা ছবি দেখে যখন চতুর্থটা শুরু করতে যাব তখন আমাদের প্লেন ৯ ঘন্টার transit এর জন্য Iceland পৌছাল। Iceland দেশটি বাংলাদেশের সমান হবে, কিন্তু জনসংখা খুবি কম, যদিওবা দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুবি খারাপ, তবু দেখে বেশ সাজান  গোছানো মনে হলো।  বাহিরে যে ভীষন ঠান্ডা ছিল আমরা তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, বাসে করে দেশটির রাজধানি ‘Reykjavík’ গেলাম শহরটা ঘুরে দেখবার জন্য, ঠান্ডার কারনে খুব একটা ঘুরতে পারছিলাম না, কিন্তু মজার বিশয় হলো এদের main শহর যেখানে সব মার্কেট আছে সেটা খুবি ছোট। অল্প সময়েই তাই ঘুরে ফেললাম ঠান্ডায় কেপে কেপে :P

এরপর গেলাম দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘Blue Lagoon‘ – একটি geothermal spa’এর জায়গা। মুগ্ধ হয়ে গেলাম দেখে, চমৎকার জায়গা! সময় সল্পতার কারনে পানিতে নামা হয়নি কিন্তু সেই মনমুগ্ধকর জায়গা দেখে ‘Iceland’এর transit টাকে ভীষন সার্থক মনে হলো :) ওখানকার পানি খুবি warm এবং বলা হয়ে থাকে এই জায়গার পানি শরিরের (medical reason) জন্য খুবি ভাল, তাই অনেকেই এই পানিতে গোসল করতে আসে।

Blue Lagoon‘  এর মুগ্ধতা শেষে airport’এর উদ্দেশে রওনা দিলাম, কিছুখনের মাঝে আমাদের যাত্রা শুরু হবে UK (London)’ এর উদ্দেশে। বেশ ভালই লাগল দেশটি দেখে। সবচেয়ে মজা পেয়েছিলাম যেই জিনিষে তা হলো দেশটির currency! ১ ডলার = ১২৪ ক্রনা। এক কাপ চায়ের দাম দেখা যায় ২৫০ ক্রনা, বাসের ভাড়া দেখা যায় ৫/৬ হাজার :P কয়েক ঘন্টায় মনে হলো আমরা বুঝি অনেক হাজার কিংবা লাখ ক্রনা খরচ করে ফেলেছি :D

যাহোক, ‘Blue Lagoon’  থেকে সরাসরি এয়ারপোর্টে ফিরলাম, অনেক খুজে পেতে কিছু asian খাবার জোগার করলাম, সেই অখাদ্য গিলে কিছুখন হাটাহাটি করতেই প্লেন উঠার সময় এলো। যাত্রা শুরু করলাম UK এর উদ্দেশে – যে দেশ একসময় পৃথিবিকে শাষন করেছে, যে দেশ নিয়ে আছে অনেক ইতিহাস, সেই দেশ আমি অবশেষে দেখব, ভেবেই আমার কেমন যেন অদ্ভুত এক অনুভুতি হলো!!

Blue Lagoon Spa - Iceland

Reykjavík - capital of Iceland

Reykjavík - capital of Iceland

Adha Ghonta! Notun Jibon!

Adha ghonta por amake ber hoye jete hobe office theke…bashay jabo shoja office theke..ei adha ghonta ami kivabe paar korbo? Amar ei muhurte temon kono kaj nei, ar choto khato du ekta jinish ache ja korar moto mood nei, ami tahole kivabe ei adhata ghonta par korbo??

Oneekdin blog’e ashina…vablam…kenona ei shomoyta eikhane katai :)

ki lekha jay? oneek kichu likhar ache…oneek notun news ache… kintu shundor kore guchiye likha mathay ashche na…

aj theke around 4 bochor age ami USA eshechilam….2005′er July’e….biye korechilam July’er prothom dike ar tar por middle east jamaira jemon notun bouke rekhe chole jay ami amar jamaike rekhe shur shur kore USA chole ashlam bishal shopno niye MS korar jonno :P…..ekla thakar koshto kake bole ar aponjonke chere thaka kemon shei prothom ter peychilam…emon kono din jayni ami kadtam na…protidin ami deshe ferot jabar ticket katar plan kortam…shadharanoto eirokom khetre manush aste aste used to hoye jay, ami holam na…tai ek semester shesh kore vodro meyer moto deshe ferot gelam porashuna shob faki diye….abar fire ashbo kina…Masters shesh korbo kina tokhono janina….ja ache kopale..deshe chole gelam one way ticket kete…mone mone thik korlam jodi hubby ashte pare taholei ekmatro back korbo…shouvaggo jonokvabe next fall e amar hubby’er MS scholarship holo….

ami ek semester drop diye arame ayeshe 4 mash deshe katiye abar back korlam hubby shoho 2006′er majhamajhi…..duijon dui jagay thakar story tokhono shesh hoye jayni….hubby porto ek state..ar ami arek state…vagger nirmom porihashe ei goto pray charta bochor ami ar amar hubby porashunar karone kingba job’er karone hok shobshomoy dui state thekechi…east coast ar west coast…

choto thakte shobshomoy hashahashi kortam taderke niye jara huband wife alada thake…shei jinish eshe amar vaggei porlo…ei char bochore oneek koshto hoyeche…oneek struggle korechi amra eka eka and finally amader mone holo ‘This is it!’…..tai dhai dhai kore ami eibar amar jamair kahce ferot jachchi …ar chardin pore…dirgho char bochor age je story amra kagoje kolome shoi kore shuru korechilam shetar shottikar rup dite ami east coast theke west coast fly korchi…..

jibon khubi odvut…ei char bochore koto kichu ghote geche jibone…koto notun mukh..notun experience…koto chomotkar shob shomoy…koto bedonamoy shomoy keteche…kintu amar destination ekhon amake shob chere ek jaygai sthir korche….oneek diversity dekhar shouvaggo amar hoyeche….ebong eto struggle er majheo ami prochondo vabe ei diversity’ke enjoy korechi…onek experince’e porinoto hoyeche…mature hoyechi…..ami ekhon bekul agrohe amar notun jibon shuru korte jachchi….ei dirgho ekla jiboner porishomapti ghotte jahchce obosheshe ….

aj amar khushi dekhe ke :)

P.S: matro 13 minite holo :(

Moner Shokti ….Tike Thakar Ei Jatra!

ami kheyal korechi manush hishebe amader dhoirjo oshadharon…shomosto kichur por’o amader cholte hoy ebong amra choli….oneek kichutei amra birokto ar hotash thaki…tobu amra jibonke chaliye niye jai…manusher ei khomota amake shobshomoy bishshito kore…ami nijeke dekheo khub obaak hoi, ei ami ekshomoy school’e jete ammu kingba abbu shathe thakto, erpor jokhon college dhuklam khone khone abbu ammuke update ditam…shondhar age bari firte hoto…cholar pothe shob kichu family take care korto….university’e pa debar por oneek independent hoye uthlam ..dorm e thaktam…tobuo hater kache attio shojon bondhura chilo…shob shomoy mone hoto keuto ache…

shei oneeek asroye ar dependent hoye bere otha ami jokhon prothom US ashlam simple grocery theke shuru kore…shomoymoto bill deya….nijer shob kaj nije kora…shob eka eka korte hoyeche….majhe majhe break down korechi…mone hoyeche..ar na…ar ek muhurto ekhane thakte parbona…..kintu ki ashchorjo….tike gechi…MS ta shesh korechi…job search kore job korechi….job hariyechi…..abar job khuje niyeche ei durlov economy’te…..jokhon takai nijer dike majhe majhe bishash hoyna, ei ki ami? kivabe pelam eto shahosh…tike thakar ei shokti kotha theke ashe amader? amra manush hishebe odvut….jokhon mone kori completely break korbo…tokhon ki odvut vabei na abar uthe darai….notun kore shuru kori….obak kore, vishon obaak kore amader ei shokti..ei spirit amake :)

valo lage jokhon nijer jiboner dike pechon fire takai…..porashuna korar jonno kingba job korar jonno na, eigular cheyeo oneek boro prapti amar kache ei tike thakar experience….ei prochondo diverse life…ei tike thakar struggle…here hereo uthe darabar ei muhurtogulo amake mugdho kore…amake purno kore….

just goto pach masher ghotonagulor kotha vableo ami ramanchito feel kori…job chole gelo…kichudin Seattle chilam …tarpor California…tarpo notun job peye Philadelphia…er majhe abar Philadelphiar vetor dui bar basha bodol…notun gari kina….age kokhono driving korini…higway te eka eka driving experience.eka eka Philly theke NJ jawa..notun kaje tike thakar cheshta..notun notun technology shekha…notun jaigai nijeke khap khawanor cheshta….shob kichu ek odvut journey…prochondo diverse….prochondo struggling, yet chomotkar….moner ei shokti…..tike thakar ei jatra eto koshter majheo vishon modhur ar poripurno mone hoy :)

আমার অস্তিত্ত আমার দেশ!!

কিছুদিন থেকে একটা ব্যাপার আমাকে খুব খোচাচ্ছে, ব্যাপারটা আগেও আমাকে সবসময় ভাবিয়েছে কিন্তু ইদানিং বোধহয় একটু বেশীই অস্থির করে তুলছে। এই যে আমি প্রতিদিন কাজে যাই, কাজ থেকে ফিরে, কাজের মাঝে আমার সহকর্মীদের সসাথে কথা বলি, ঘরে ফিরে এক অল্প পরিচিতা ইন্ডিয়ান মেয়ের সাথে কিছুখন কথা বলি, এরপর খাই এবং ঘুমাই – এই অতি নিরানন্দময় জীবনের যাত্রার সবচেয়ে কুতসিত যেটা তা হলো এরা কেউ আমার আপনজন না কিংবা আমার দেশের মানুষ না।আমি বেচে আছি অসংখ মানুশের মাঝে…কিন্তু এদের কারো সাথেই আমার মতামত, চিন্তাভাবনা, কথা বার্তা, দুঃখ বোধ, সুখ…আকুলতা, বিষন্নতা…কিছুই মেলেনা…আমি বেচে থাকি শুধু বেচে থাকার জন্য! অসংখ অপরিচিত মুখের মাঝে!!

ভিনদেশে ভাল পরাশুনা করতে এসে, ভাল চাকুরি করতে করতে এইভাবে কথা বলা হয়তো আমাকে মানায় না, নিজের সার্র্থের জন্য, ভালো কিছু করার জন্যই এখানে পরে আছি, কিন্তু তবু মাঝে মাঝে কিছুতেই মন টিকেনা, ভীষন অরথহীন মনে হয় এই জীবন্টা, মনে হয় – এর চেয়ে আপনজনদের মাঝে একটু কম সুখে, কষ্ট করে থাকাও ভাল।তবু বেচে থাকার একটা মুল্য থাকবে।

তাই কদিন ধরে seriously ভাবছি দেশে ফেরত যাব, হয়ত এক্ষুনি এই মুহুর্তে যাওয়া সহজ নয়, তবে খুব শীঘ্রই, ২ থেকে ৩ বছরের মাঝে দেশে ফেরত যাব। জানি অনেক polution, অনেক নোংরা পলিটিক্স, সুযোগ – সুবিধার অনেক কম, আর সবচেয়ে ভয় হলো নিরাপত্তা নিয়ে, তবু সেটাই আমার দেশ, সেখানেই আমার শীকড়। যে দেশে জীবনের একটা বড় সময় কাটিয়ে এসেছি সেখানকার সব  problem-এর মাঝেও, সেখানে, ৩ বছর একটু ভাল দেশে(আমেরিকা!!) থেকে নাক কুচকানোর কিছু দেখিনা, যেমন যাই হোক, ওটাই আমার দেশে, ওখানেই আমার অস্তিত্ত। হয়ত কিছু ভাল কায়দা কানুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, কিন্তু কাছের মানুশ থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে এখন অভ্যস্ত হয়নি আর কখন হতে পারব বলেও মনে করিনা।

প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দের ব্যাপার থাকে, সময় আর পরিস্থিতির সাথে তা বদলায়। আমি যদি হয়ত আরও অনেক ছোট বেলায় এখানে আসতাম, এইখানকার culture-এর সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পারতাম, কিংবা মা-বাবা আপঞ্জন্দের নিয়ে এইখানে থাকতাম, ব্যাপারটা হয়তো ভিন্ন হতো, কিন্তু আমি এখন কিছুতেই এখানে মন দিতে পারিনা, আমার আমার নিজের অস্তিত্তকে পর্যন্ত অনুভব করতে পারিনা, একজন  lost মানুষ হয়ে বেচে আছি, যার কোনো মুল্য নেই।

আমি তাই seriously ভাবছি, দেশে ফিরে যাব, যত দ্রুত সম্ভব। এই অস্তিত্তের টানাটানি নিয়ে অর্থহীন জড় পদার্থের মত বেচে থাকা আর সম্ভব হয়ে উঠছেনা।

আমি আমার আপন ঠিকানায় নিজেকে আবিষ্কার করতে চাই …।আমি আমার আপন দেশে আমার ঘরে ফিরে যেতে চাই :)

dsc_0605-3

মায়া!!

10 - Punam - Maya - I
10 – Punam – Maya …
Hosted by eSnips

কেউ যখন আর নেই পাশে
তন্দ্রা মগন কোনো আকাশে
দূর সময়ের নিঃশাষে গোধুলির খেলা
দিন শেষে নিয়ে আসে মায়া…
তোর পানে মায়া…তোর গানে মায়া…তোর কাছে যাই চলে।

শান্ত নদী ঢেউ ডাকে আছে
সন্ধ্যা নামে সপন ফিরে পাছে (২)
রুপকথা জীবনে তবু রয়ে যায়
সাদা কালো যা ছিল সেখানে রংধনু মায়া…
তোর পানে…
তোর খেলা সে খেলা …সে খেলা মিছে খেলা…গোধুলির খেলা

দিন শেষে নিয়ে আসে মায়া
তোর পানে মায়া…তোর গানে মায়া…তোর কাছে যাই চলে।

ভুলে যাবার তেমন আর কিছু নেই
তবু তোর কথা মনে পরলেই (২)
রংধনু উঠে আকাশের সীমানায়
যাচ্ছে চলে সবি তো
শুধু চিরস্থায়ি মায়া…

তোর পানে…
তোর খেলা সে খেলা …সে খেলা মিছে খেলা…গোধুলির খেলা

দিন শেষে নিয়ে আসে
মায়া…তোর পানে মায়া…তোর গানে মায়া…তোর কাছে যায় চলে।

……………………………………।।

যদি মন কাদে তুমি চলে এসো……

Tutul & Shaon - Ei Boroshay_0
Tutul & Shaon – Ei…
Hosted by eSnips

উপরের esnips link’e গানটি শোনা যাবে। খুবি soft গানটা, শুনতে ভালই লাগছিলো, তুলে দিলাম ব্লগ-এ :)

যদি মন কাদে তুমি চলে এসো, চলে এসো …এক বরষায়
এসো ঝরঝর বৃষ্টিতে… জলভরা দৃষ্টিতে
এসো কমল শ্যামল ছায়…চলে এসো, তুমি চলে এসো… এক বরষায়…যদি মন কাদে…

যদিও তখন আকাশ থাকবে বৈরি, কদমগুচ্ছ হাতে নিয়ে আমি তৈরি,
উতলা আকাশ মেঘে মেঘে হবে কালো, ঝলকে ঝলকে নাচিবে বিজরী আলো
তুমি চলে এসো এক বরষায়……যদি মন কাদে

নমিবে আধার বেলা ফুরাবার খনে, মেঘমল্লার বৃষ্টির মনে মনে …
কদমগুচ্ছ খোপায় জরায়ে দিয়ে,
জলভরা মাঠে নাচিব তোমায় নিয়ে…
চলে এসো, চলে এসো এক বরষায়…যদি মন কাদে……

আমার খবরা খবর!!

পরসমাচার এই যে, আমি Philadelphia শহরে jobপেয়েছি এবং প্রায় ২ সপ্তহ হলো কাজ শুরু করে দিয়েছি। Economy-র এই দুরদিনে যে একটা কাজ পেয়েছি তাতেই আমি ধন্য, সেটা সাধ্রের NY শহরে না হলেও, বেশ ভাল  company এবং আমার কাজের রকমটাও চমতকার (কিন্তু অনে……ক pressure :( )।

এখান থেকে NY মাত্র ২/৩ ঘন্টা। যেই জাইগায় থাকছি তার নামটা খুবি সুন্দরঃ King Of Prussia. চমতকার সাজানো গোছানো শহর। আমার বাসার কাছেই হলো আমেরিকার দিতীয় বৃহত্তম shopping mall. এইখান থেকে Philly downtown মাত্র ১৫ মিনিটের মতো, খুবিই চমতকার।Manhattan -এর মতো চাকচিক্কময় কিন্তু ওখা্নকার মতো এত crowd নয়। ছিমছাম এবং clean। এইটা একটা খুবি পুরনো শহর তাই রেস্তুরেন্ট এবং শপিং সেন্টার গুলো অনেক অভিজাত!!

আমার বাসা থেকে প্রতিদিন কাজে যেতে লাগে ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট।

আমি আগে কখনো একা সেভাবে গাড়ী চালাইনি, তাই নতুন কাজের excitement কিংবা  pressure যতটা না আমাকে কাবু করেছে তার চেয়ে বেশি আমি মুগ্ধ এবং আতঙ্কিত আমার driving নিয়ে  :$ খুবি ভয় পাই কিন্তু মজাও লাগে :)

এইখাঙ্কার রাস্তা ঘাট গুলো খুবি ছোটো এবং ভীষন আকা বাকা, বাসা ফিরতে ফিরতে আমার দম বের হয়ে যায়, তার উপর যোগ হয়েছে snow. যাহক, এও এক বিরল অভজ্ঞতা জিবনের :)

নতুন বাসা গোছানো থেকে শুরু করে, নতুন কাজ বুঝে নেয়া, নতুন মানুষের সাথে মেশা..নতুন জায়গা ঘুরে দেখা….সব মিলিয়ে খারাপ যাছছেনা…

কাজ খোজা, interview দেয়া, কাজে join করা, বাসা খোজা…সব মিলিয়ে এত ব্যস্ত ছিলাম যে আমার যে একটা ব্লগ আছে আর সেটা update করার যে একটা ব্যাপার আছে বেমালুম ভুলে গেছিলাম…যাহোক, দেরিতে হলেও কিছু একটা লিখেছি…এতেই আমি খুশি!!

আশা করি আবার একটু নিয়মিত লিখতে পারব।

সাধের নিউইয়র্ক :)

সাধের নিউইয়র্ক শহরে অবশেষে এসে পৌছেছি :P

গতকাল রাতে দশটায়  যখন নামলাম জ্যাকসন হাইটস মনে হল কত চেনা জায়গাটা!! আমি খনিকের জন্য ভুলে গেলাম যে আমি এইখানে এখন আর থাকিনা!  এবং আমি কিছুটা nostalgic হয়ে পড়লাম! যাহক, আসার পর থেকে অবশ্য ঘরেই বন্দি, আমার ধারনা ঘরে বসে থাকতে থাকতে আমি ঘরকুনো হয়ে গেছি :( ঘরে আছি তবু কিযে ভালো লাগছে, খালার হাতের মজার মজার রান্না আর গরম গরম চা, কিযে সুখ মনে হচ্ছে :) অবশেষে vegetarian ঊপাধি থেকে মুক্তি পেলাম :)

ঘরকুনোর আরেক নমনা হলো আমার অতি প্রিয় বান্ধবি আমাকে Atlantic city বেড়াতে যাবার জন্য ফোন করেছিল, আমি নিরবিকার ভাবে না করে দিয়েছি :D এই ঠান্ডায় এতদুর যাবার চিন্তাতে আমার বিরক্ত লাগছিল!!

যাহোক, যত যাই বলি, বেরতো হবই! এতদিনে এলাম, ঘুরে দেখবনা আমার অতি চেনা প্রিয় শহরটা  :P ঘুরব আর একটু পর পর nostalgic হবো, এটাই মজা লাগছে এখন !!

অর্নবের গান শু্নছি একটা আজ  সারাদিন: (গানটির Link (external) )

শীতের সন্ধ্যায়, আমার তোমার কি কোথাও হারিয়ে যাওয়ার কথা
তারার নিচে, বাতাস বয়ে যায়, আমার তোমার কি কোথাও লুকিয়ে থাকার কথা
সময় কি আমাদের স্বপ্ন দেখাবে, নাকি নিয়ে যাবে আরও দূরে
চল ভাবি এই আশাতে একসাথে হাত ধরে
সেই রোদ জ্বলা মিষ্টি শীতে ভোরে বিকেলে…..।

আমার তোমার কি কোথাও হারিয়ে যাওয়ার কথা
আমার তোমার কি কোথাও লুকিয়ে থাকার কথা

এত কিছু কি আমাদের আজ হওয়ার কথা
ভাবছি যা, সময় তা নিয়ে যায় অযথা

সময় কি আমাদের স্বপ্ন দেখাবে, নাকি নিয়ে যাবে আরও দূরে
চল ভাবি এই আশাতে একসাথে হাত ধরে
সেই রোদ জ্বলা মিষ্টি শীতে ভোরে বিকেলে…..।